Check out the PM Matsya Sampada Yojana benefits: ভারতের ‘নীল বিপ্লব’ (Blue Revolution)-কে ত্বরান্বিত করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হল প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা। সমুদ্র ও অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে এই প্রকল্প। ভারতের মৎস্য চাষি এবং মৎস্যজীবীদের আয় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দেয় এই প্রকল্প।
ডিজিটাল হবে মৎস খাতও
সরকার এই যোজনার আওতায় e-Gopala অ্যাপের মতো মৎস্যজীবীদের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করছে। মাছের ট্র্যাকিং এবং গুণমান নিশ্চিত করতে ব্লকচেইন ও জিপিএস প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার উদ্দেশ্য। Check out the PM Matsya Sampada Yojana benefits
২০২৪-২৫ সালের মধ্যে মাছের উৎপাদন আরও ২২ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার জন্য এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
- মাছ চাষের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, মৎস্যজীবীদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- Post-harvest losses ২০-২৫% থেকে কমিয়ে ১০%-এ নামিয়ে আনা ও প্রায় ৫৫ লক্ষ মানুষের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
- মৎস্য রপ্তানি থেকে আয় বাড়িয়ে ১ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া।
কী কী সুবিধা পাবেন
- খাঁচায় মাছ চাষ (Cage Culture), সিউইড (Seaweed) চাষ এবং বায়োফ্লক প্রযুক্তির প্রসারে সহায়তা করা হয়।
- আধুনিক ফিশিং হারবার, বরফ কল (Ice Plants), কোল্ড স্টোরেজ এবং মাছের বাজারের আধুনিকীকরণ করা হয়।
- মৎস্যজীবীদের জন্য দুর্ঘটনাকালীন বীমা এবং নৌকার বীমা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।
- মাছের রোগ নির্ণয়ের জন্য মোবাইল ল্যাবরেটরি এবং নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়।
সুবিধাভোগী কারা?
এই যোজনার সুফল পাবেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ, যেমন:
- মৎস্যজীবী, মৎস্য চাষি এবং মাছ বিক্রেতা বা উদ্যোক্তা এবং বেসরকারি সংস্থা।
- মৎস্য উন্নয়ন নিগম এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHGs) বা মৎস্য খাতের সমবায় সমিতি এবং ফেডারেশন।
- তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি উপজাতি (ST) এবং মহিলারা (যাদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার রয়েছে)।
কীভাবে এই প্রকল্প থেকে সুবিধা পাওয়া যায়
এই যোজনাটি দুটি প্রধান উপাদানে বিভক্ত:
১. কেন্দ্রীয় সেক্টর স্কিম (CS): এখানে প্রকল্পের পুরো খরচই কেন্দ্র সরকার বহন করে।
২. কেন্দ্রীয় স্পনসরড স্কিম (CSS): এখানে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার মিলে খরচ বহন করে।
জানিয়ে রাখি, উত্তর-পূর্ব এবং হিমালয় অঞ্চলের রাজ্যগুলোর জন্য কেন্দ্র ৯০% এবং রাজ্য ১০% খরচ দেয়। অন্য রাজ্যগুলোর জন্য এটি ৬০:৪০ অনুপাতে ভাগ করা হয়। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য কেন্দ্র ১০০% অর্থ প্রদান করে।
প্রসঙ্গত, এই প্রকল্পটি ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য বাস্তবায়িত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ভারত সরকার এই যোজনার জন্য মোট ২০,০৫০ কোটি টাকার একটি বিশাল বাজেট বরাদ্দ করেছে। সামুদ্রিক, অভ্যন্তরীণ মৎস্য চাষ এবং মৎস্যপালনের জন্য ৯,৪০৭ কোটি টাকা ও মৎস্য খাতের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১২,৬৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
