Do you know how to merge PF accounts: চাকরি পরিবর্তন করা আমাদের ক্যারিয়ারের একটি সাধারণ অংশ। কিন্তু অনেক সময় নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর পুরনো পিএফ অ্যাকাউন্টটি আগের মতোই থেকে যায় এবং নতুন কোম্পানি আরেকটি পিএফ অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়। এর ফলে একজন কর্মীর দু’ টি আলাদা Universal Account Number (UAN) বা একই UAN-এর অধীনে দুটি আলাদা মেম্বার আইডি তৈরি হয়।
দু’ টি আলাদা অ্যাকাউন্ট থাকা কেবল হিসাবের গোলমাল নয়, এটি আপনার পেনশনের ওপর প্রভাব ফেলে এবং টাকা তোলার সময় বাড়তি ট্যাক্সের বোঝাও চাপাতে পারে। আজকের প্রতিবেদনে আমরা জানাব কীভাবে এই সমস্যা সমাধান করবেন।
কেন পিএফ অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার করা জরুরি?
- পেনশনের সুবিধা: টানা ১০ বছর পিএফ অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হলে আপনি পেনশনের যোগ্য হন। অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার করলে আপনার চাকরির মোট সময়কাল একসাথে যোগ হয়।
- ট্যাক্স সাশ্রয়: নিয়ম অনুযায়ী, ৫ বছরের কম সময় টাকা জমা দিয়ে পিএফ থেকে টাকা তুললে তার ওপর ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয়। আপনি যদি অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার না করে পুরনো অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলেন, তবে আপনার চাকরির মেয়াদ ৫ বছরের কম হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং ট্যাক্স কাটা হতে পারে।
- সুদ লাভ: পুরনো অ্যাকাউন্টে টাকা ফেলে রাখলে একটা সময় পর তাতে সুদ পাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে (যদি সেটি ‘Inoperative’ হয়ে যায়)।
ইপিএফ ট্রান্সফার করার অনলাইন পদ্ধতি (ধাপে ধাপে) Do you know how to merge PF accounts
ইপিএফও (EPFO)-এর ‘Unified Portal’-এর মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই এই কাজ করতে পারেন:
- লগ-ইন করুন: প্রথমে EPFO Unified Portal-এ গিয়ে আপনার UAN এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ-ইন করুন।
- অনলাইন সার্ভিস: মেনু বার থেকে ‘Online Services’ অপশনে যান এবং ‘One Member – One EPF Account (Transfer Request)’ ক্লিক করুন।
- বিবরণ যাচাই: আপনার বর্তমান নিয়োগকর্তা এবং পিএফ অ্যাকাউন্টের তথ্য স্ক্রিনে দেখতে পাবেন। এটি ভালো করে মিলিয়ে নিন।
- পুরনো অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস: এবার আপনার পুরনো পিএফ অ্যাকাউন্টের তথ্য পেতে ‘Get Details’ বাটনে ক্লিক করুন।
- অ্যাটাস্টেশন (Attestation): আপনার ট্রান্সফার রিকোয়েস্টটি বর্তমান নাকি পুরনো কোম্পানির মাধ্যমে ভেরিফাই করাবেন, তা সিলেক্ট করুন (বর্তমান কোম্পানি সিলেক্ট করা দ্রুততর হয়)।
- ওটিপি ভেরিফিকেশন: আপনার আধার লিঙ্কড মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি আসবে। সেটি দিয়ে ‘Submit’ করুন।
সাবমিট করার পর একটি পিডিএফ জেনারেট হবে, যা আপনার বর্তমান কোম্পানিকে জমা দিতে হতে পারে (সব ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় না)।
টাকা তোলার সময় ট্যাক্স বাঁচাবেন কীভাবে?
পিএফ থেকে টাকা তোলার সময় দু’ টি প্রধান বিষয় মনে রাখবেন:
- চাকরির মেয়াদ: সব মিলিয়ে আপনার চাকরির মেয়াদ যদি ৫ বছরের বেশি হয়, তবে টাকা তোলার সময় কোনও TDS (Tax Deducted at Source) কাটা হয় না। তাই সব সময় পুরনো পিএফ অ্যাকাউন্ট নতুন অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নিন যাতে চাকরির মেয়াদ বেড়ে যায়।
- ১৫জি (15G) / ১৫এইচ (15H) ফর্ম: যদি আপনার মোট আয় ট্যাক্স সীমার নিচে হয় এবং আপনি ৫ বছরের আগে টাকা তুলতে বাধ্য হন, তবে টাকা তোলার সময় এই ফর্মটি জমা দিন। এতে টিডিএস কাটা বন্ধ হবে।
প্রসঙ্গত, আপনার কষ্টার্জিত টাকা সঠিকভাবে পেতে হলে পিএফ অ্যাকাউন্ট নিয়মিত আপডেট রাখা অত্যন্ত জরুরি। চাকরি বদলানোর সাথে সাথেই পুরনো ব্যালেন্স নতুন অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিন। এতে অবসরের পর পেনশনের টাকা পেতেও কোনও জটিলতা হবে না।
