Roshogolla

২০২৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি Biggest School

Find the top 10 biggest school in the world 2025

Find the top 10 biggest school in the world 2025: শিক্ষা কেবল বইয়ের জ্ঞান নয়, এটি মানবতার মূল ভিত্তি। শিক্ষার আলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। তবে কিছু স্কুল তাদের বিশালতা, শিক্ষার মান ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের কারণে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে। আজ জানুন বিশ্বের শীর্ষ ১০ বৃহত্তম স্কুলের বিস্তারিত তথ্য, যেগুলো কেবল আকারেই নয়, গুণেও অসাধারণ।

বিশ্বের বৃহত্তম স্কুল ২০২৫

১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতের লখনউতে অবস্থিত সিটি মন্টেসরি স্কুল (সিএমএস) বিশ্বের বৃহত্তম স্কুল হিসেবে স্বীকৃত । এখানে ৫৫,০০০ এরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের মধ্যে প্রাক-বিদ্যালয় থেকে শুরু করে উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত রয়েছে। সিএমএস কেবল তার আকারের জন্যই নয়, বরং আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং শান্তি ও সহনশীলতার মতো মূল্যবোধের উপর জোর দেওয়ার জন্যও বিখ্যাত। বছরের পর বছর ধরে, স্কুলটি অনেক জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরষ্কার পেয়েছে, যা এটিকে শিক্ষার ক্ষেত্রে সত্যিকারের বিশ্বব্যাপী নেতা করে তুলেছে।

১. সিটি মন্টেসরি স্কুল (লখনউ, ভারত)

বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্কুল হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে সিটি মন্টেসরি স্কুল। ১৯৫৯ সালে জগদীশ ও ভারতী গান্ধী এটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এই স্কুলে ৫৫,০০০ এরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং ৪,৫০০ এরও বেশি শিক্ষক কর্মরত আছেন। লখনউ শহরে এর ২০টিরও বেশি শাখা রয়েছে। প্রতিটি শাখায় আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞানাগার ও গ্রন্থাগারের সুব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সহমর্মিতা ও বৈশ্বিক নাগরিকত্বের বোধ তৈরি করাই এই স্কুলের মূল উদ্দেশ্য।

২. নবোদয় বিদ্যালয় (ভারত)

নবোদয় বিদ্যালয়গুলি ভারতের সরকার পরিচালিত একটি বিশেষ শিক্ষা নেটওয়ার্ক। মূলত গ্রামীণ এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এই আবাসিক স্কুলগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৬০০টিরও বেশি নবোদয় বিদ্যালয় রয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে শিক্ষা, খাবার, বই, পোশাক ও বাসস্থানের সুবিধা পায়। এই উদ্যোগ ভারতের শিক্ষা বৈষম্য দূরীকরণে অসাধারণ ভূমিকা রাখছে। নবোদয় বিদ্যালয় মডেল এখন বিশ্বব্যাপী শিক্ষানীতির অনুপ্রেরণা।

৩. রিজাল হাই স্কুল (ফিলিপাইনস)

রিজাল হাই স্কুল ফিলিপাইনসের পাসিগ শহরে অবস্থিত। ১৯০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি একসময় বিশ্বের বৃহত্তম মাধ্যমিক স্কুল হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। বর্তমানে প্রায় ২০,০০০ শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করে। স্কুলটিতে রয়েছে একাধিক ভবন, বিজ্ঞানাগার, ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও উন্নত পাঠদান পদ্ধতি। সামাজিক সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ গঠনে রিজাল হাই স্কুলের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

৪. সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুল (কলকাতা, ভারত)

১৮৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটি ভারতের অন্যতম সম্মানজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ক্যাথলিক মিশনের অধীনে পরিচালিত এই স্কুলে বর্তমানে প্রায় ১২,০০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সেন্ট জেভিয়ার্স শুধু একাডেমিক উৎকর্ষতার জন্য নয়, খেলাধুলা, বিতর্ক, নাটক ও সমাজসেবায়ও সমানভাবে বিখ্যাত। এর প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন বহু খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব, যাঁরা দেশ ও বিদেশে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছেন।

৫. মারিস্ত স্কুল (ব্রাজিল)

মারিস্ত স্কুল নেটওয়ার্ক দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বৃহত্তম শিক্ষা সংগঠন। এটি মূলত ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের পরিচালিত একটি বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠান। ব্রাজিলে এর একাধিক শাখা রয়েছে এবং প্রতিটি ক্যাম্পাসে হাজার হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। স্কুলগুলোতে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, ক্রীড়া সুবিধা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও গবেষণামূলক শিক্ষা প্রদান করা হয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়।

৬. ট্যাগর ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ভারত)

দিল্লিতে অবস্থিত ট্যাগর ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত, যেখানে শিক্ষার পাশাপাশি সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখানে আন্তর্জাতিক ব্যাকালোরিয়েট (IB) পাঠ্যক্রম চালু রয়েছে। ডিজিটাল লার্নিং, রোবোটিক্স এবং গ্লোবাল স্টাডিজের মতো আধুনিক বিষয়েও শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ পায়। স্কুলটির পরিবেশ ও পাঠদানের মান একে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছে।

৭. জাকার্তা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ইন্দোনেশিয়া)

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম আন্তর্জাতিক স্কুলগুলোর একটি এটি। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় ২,৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। স্কুলটি ৬০টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত, যা একে একটি বৈশ্বিক শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা, আধুনিক ল্যাবরেটরি, ক্রীড়া সুবিধা ও বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ এটিকে করেছে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান।

৮. অ্যাডিলেড হাই স্কুল (অস্ট্রেলিয়া)

অ্যাডিলেড হাই স্কুল অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি দেশের প্রথম পাবলিক হাই স্কুল। ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩,০০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। এই স্কুলটি বিশেষভাবে পরিচিত ভাষা শিক্ষার জন্য। এখানে ফরাসি, জার্মান, জাপানি, চীনা সহ একাধিক ভাষা শেখানো হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিনিময় প্রোগ্রাম এবং ক্রীড়া কার্যক্রমের জন্যও স্কুলটি খ্যাত।

৯. মস্কো স্কুল নং ৫৭ (রাশিয়া)

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অবস্থিত এই স্কুলটি গণিত ও বিজ্ঞানের জন্য বিখ্যাত। এখানে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হতে পারে। তাদের জন্য বিশেষ গবেষণামূলক পাঠ্যক্রম চালু রয়েছে। অনেক রুশ বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং প্রোগ্রামার এই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে এদের অংশগ্রহণ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

১০. বেইজিং নং ৪ হাই স্কুল (চীন)

১৮০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটি চীনের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রায় ১০,০০০ শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। বেইজিং নং ৪ হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। উচ্চতর গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় স্কুলটির অবদান বিশাল। আধুনিক গবেষণাগার, ক্রীড়া কমপ্লেক্স এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচি এটিকে এক সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছে।

বিশ্বের বৃহত্তম স্কুলগুলোর বিশেষত্ব

এই বৃহৎ স্কুলগুলো শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যায় নয়, মানেও অনন্য। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক, এবং সৃজনশীল পাঠ্যক্রমের কারণে এগুলোর সুনাম বিশ্বজোড়া। তাদের শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো—শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল, উদ্ভাবনী এবং মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। এই স্কুলগুলো প্রমাণ করে, শিক্ষা শুধু পরীক্ষার জন্য নয়; এটি জীবনের জন্য। 

বিশ্বের বৃহত্তম স্কুলগুলো আধুনিক শিক্ষার অগ্রযাত্রার প্রতীক। এই বৃহৎ স্কুলগুলো কেবল সংখ্যার দিক থেকে নয়, মান, নীতি ও শিক্ষাদর্শের দিক থেকেও অনন্য। তারা দেখিয়েছে—যদি সঠিক দিকনির্দেশনা, মানসম্পন্ন শিক্ষক ও উন্নত অবকাঠামো থাকে, তবে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীও সমানভাবে মানসম্মত শিক্ষা পেতে পারে। শিক্ষা ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা, আর এই স্কুলগুলো সেই আলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে অনবরত।

আরও পড়ুন: NSP স্কলারশিপ অনলাইনে আবেদন করলেই পাচ্ছেন ১০,০০০-৫০,০০০ টাকা

Exit mobile version